মরণোত্তর জবানবন্দী
মরণোত্তর জবানবন্দি
যুথিকা দাস১৭/০৫/১৮
___________________________________
এই তো সময় জেগে উঠো, ধর মন্ত্রণা শ্লোক,
নাও মরণোত্তর জবানীতে দগ্ধ হোক তাপ
প্রতিশ্রুতি আর শোষণের, লোভাতুরা চোখ।
মরণের তীরে তীরে লিখা হোক প্রতিবাদ
কলমের আঁচরে কবিতা হোক বৃষ্টির মতো,
পথ ঘাট শশ্মাণ সমাধি হোক একাকার,
কবিতা হোক তোমার আমার।
কবিতাই হোক এক মাত্র হাতিয়ার
মৃত্যু উপত্যকাতে আরেক সমাধি গড়তে,
কবিতা চলুক, হাটুক রাজপথ ধরে,
আভিজাত্য শহুরে লেখকের গায়ে
কালি ছুড়ুক, এই কবিতারা শোষকের মুখে,
যারা চিরদিন শাসনের নামে করেছে শোষণ
জোঁকের মতো রক্ত শোষে হাভাতে মানুষের,
যাদের মেহনতির বিনিময় দিতে তার,
তোলে অজুহাত এক নয় একাধিক বার।
যারা চোখে কালো পট্টি বেঁধে শোষণ করছে
মানুষের মগজের শুভ্রতার শ্লেষ,
দিনের পর দিন বেকারত্ব ঘোচাতে মরছে
পাথর কুটে কেটে ঘাম ঝরায় যারা
যাদের মুখের শুভ্র হাসির অন্তরালে
লুকিয়ে আছে তিক্ততার মতো ক্লেশ।
রে শোষক দেবতা!
তেমরাই সুশীল নামে কলঙ্ক, তোমরাই
উপেনের মহাজন, সাম্যতার নামে ধ্বজা উড়াও,
সভা সভ্যাতার বন্দর আর বিদেশী কাগজে।
মাটির দেশে মাটির হাড়িতে,
কত মাটির গন্ধ নিয়েছ শুঁকে?
যারা মানুষ হয়ে করছে কারিগরি
মানুষ গড়ে পাঠায় তোদের বাড়ি
তারাই আজ বঞ্চিত তোদের কলমের তলে।
আজ ওরা নিঃস্ব হয়ে আছে,
শ্রম আর শ্রমিকের রক্তে যাদের নিঃশ্বাসে,
সুখেরা ঠিকানা খুঁজে বিমানের ঘাটে,
পায়ে ফোসকা উঠে তাদের, দহনের তাপে।
রে সুশীল প্রতিনিধি, তোমরাই স্বর্গ আর
দেবপুরীতে কর বাস, মানুষের গড়ো সর্বনাশ,
অভিনয়ের কালো পর্দার আড়ালে
ঝুলে আছে লক্ষ কোটী মানবতার লাশ।
দেখ রে চেয়ে সুশীল শাসকের চোখ
দৃষ্টির পর্দা তোলে দেখ, দেওয়ালের বুকে
তোষামোদের জন্য আত্মহত্যা, খুন, ধর্ষণ
নামেছে দেখ তোর উত্তরসূরীর মুখে,
ঝরবে এমনই রক্ত ঝরা কলমের বান
কবিতা হোক তোমার আমার সকলের গান।
______________________________________
রচনাকাল
১৭/০৫/১৮
Comments
Post a Comment