এবং ঊনিশ

এবং ঊনিশ

যুথিকা দাস,
১৯/০৫/১৮
____________________________________

আমি নির্বাসিতা ঈশান বাংলার কোণে জন্মি,
গর্বে ভাসে আমার স্বর্গের পূর্বপুরুষের ভূমি,
আমরাও তার সঠিক উত্তরপদ খুঁজি,
তামাম বাঙালির মতো আমিও বাঙালি।

এপার ওপার বাংলার বাইরে নাম হল ঈশান বাংলা,
আজও এ ঈশানের রক্তাক্ত ইতিহাস উপেক্ষিত,
ইতিহাসের পাতায় আগুন লড়াই কী সত্য,
জানতে পারেনি আজও বিশ্ব বুনিয়াদ
ঈশান বাংলার এগারো জোড়া চোখের অবসাদ।

কাকভোরে ভুখা পরিবারের আম লোক
মিছিল হরতালে মিলিয়েছিল পা,
নগ্ন পায়ে শহর থেকে শহরে পরিক্রমা, বিক্ষুভ,
গড়েছিল পদব্রজে মিছিল, তরজা।
সেই ষাটের ডিসেম্বর থেকে শুরু কার্যকালি,
আগ্রাসীর বাংলা ভাষা হনন, অসমীয়াকরণ,
মেনে নেয়নি বরাকের নির্বাসিতা ঈশান বাঙালি।

চলে দলে দলে পথ সভা, বিক্ষোভ প্রতিবাদ
আমরা" জান দেব তবু জবান দেবনা" স্লোগান
গর্জে উঠে দিনমজুরী বন্দ করে চলে হরতাল,
আন্দোলন গণবিক্ষোভ, সদর ঘেরাও,
চরমে পৌঁছে মে মাসের ঊনিশের সকাল।

ট্রেণ লাইল বাস লাইন করতে হবে বন্দ ,
ঝাঁপিয়ে পড়ে পুলিশও গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে,
দশের গ্রেপ্তারে কুড়িতে ভরেছিল শূণ্য,
অতীষ্ঠ সত্যাগ্রহী আগুন ধরায় স্লোগানে
তখনি পুলিশি গুলিতে লুটায়ে পড়ে কমলা,
হিতেষ, সত্যেন্দ্র, কানাই, তরণী তরুণ,
চণ্ডীচরণ, সুকোমল, কুমুদ, সুনীল দে সরকার,
বীরেন্দ্র ও শচীন্দ্র সত্যাগ্রহী লুটিয়ে পড়ে,
ধূলো হল রক্তে লাল,  এই হল ঊনিশের ইতিহাস,
বন্ধ্যা  বরাকের পার, বুকের রক্তে ভেজা
ভাষা বাংলা তরে এগারোটি তরুণ লাশ।
________________________________________
রচনাকাল
১৮/০৫/১৮

Comments

Post a Comment