পুরুষের অভিধান

পুরুষের অভিধান,
যুথিকা দাস,
২৫/১০/১৮
___________________________________

জানি, তবে আমি নিরুপায়, গোলক ধাঁধা
অনেকের কথাটা গায়ে নয় বিঁধবে সেখানে,
যেখান থেকে জন্ম নেয় অনেক তপ্ত হাওয়া,
জন্ম নেয় অনেক রঙহীন মেঘের ঝাপটা,
আমরা কি করেইবা হলাম এত অমানুষ?
প্রতিদিন শিরোনাম দেখেই হতাস হয়ে পড়ি,
হতাস হয়ে পড়ি প্রতিদিনের মুখরোচক সংবাদে,
খুন, ধর্ষণ, নির্যাতন, টানা হেঁচড়া খেতে খেতে
তেঁথলে গেছে নারী নামের আভূষনের রঙ গুলো!

হে পুরুষ, তুমি মানুষ হওনি কেন?
বা চেষ্টা করেছ কোনোদিন মানুষ হতে?
সৃষ্টির লগ্ন থেকেই তোমায় দেখেছিলাম
দেখেছিলাম তোমার মহৎ পরিচর্যা,
দূর থেকেই বিস্মিত হতাম, কারণ জানো!
তুমি, গড়েছ নারীর কপাল গো কপাল,
গড়েছ শক্ত পোক্ত করে লক্ষ্মণ রেখা,
সতীরা তোমার জন্যই চিতায় চড়ত,
নারী কলঙ্ক অলঙ্কার হয়েই সাগরে ভাসত।

হায় রে পুরুষ, তোমার ভান করা খেলায়
মুগ্ধ ছিল নারীর কোমল নিঃশ্বাস গুলো,
উজাড় করে দিত শিথিল করত নারীমুষ্টি
ভালোবাসা নামের নাগপাশে জড়াতে তুমি।
তোমার জন্য সতী হলাম, ভ্রষ্টা হলাম
জরাযূ ছিন্ন করে উপহারও দিলাম গোপনে,
তবু তোমার অথৈ ভালোবাসার রূপাঙ্কন
দিতে আজও পারেনি নারী নামের অমানুষরা।

হে পুরুষ তোমার পৃথিবীতে বাস করি বলে
দূর্বল মনে করেছ, নারীর স্বভাবাকে
নারী তো অনেক করেছে তোমার জন্য,
তোমার জন্য আজীবন বৈধব্য নিতে জানে,
অভাবের জ্বালাও সইতে পারে
আগুনে ঝাপও দিয়েছে অনন্ত কাল
তুমি কি করেছ এক অমানুষ নারীর জন্য?

বিমলা, ফরিদারা অগ্নিদগ্ধ হতে দেখেছি
সংসারে বিষের ফোয়ারাও সামলায়,
অপবাদের শিকারও হতে দেখেছি
নিষিদ্ধ পল্লীতে সুখ তোমায় দিয়েছে নারী,
তুমি কি দিয়েছ নারীকে?
নারীকে মানুষ ভাবলে তোমার কি হয় গো?
নারীর পৃথিবী গড়েছ বলে অহংকার তোমার,
তোমার নামের বীজ যুগ যুগ বাঁচিয়ে রাখে নারী,
তোমার সংসারে সুখের সেতু বাঁধে নারী,
তবে এদের মানুষ ভাবলে কী ক্ষতি হয় হে পুরুষ?

জানি তোমাকে মানুষ ভাবতে শেখায়নি
তোমার আবরণ ইচ্ছা,
একবার ভেবে দেখো তো, সতী, বৈধব্যতা,
পথশিশুরদের জননী তো তোমার নারী?
উপাঙ্গের পরিতৃপ্তিই তোমার নারীর কোমলতায়,
তা হলে নারীকে মানুষ ভাবলে কী হয়,
জানি একক লাজের তকমায় ভাবতে শিখলেনা,
নারীকে মানুষ হতে দিলেনা হে পুরুষ পিতা!
_____________________________________
রচনাকাল
২৯/০৬/১৮

Comments