Posts

এবং কান্না

এবং কান্না! যুথিকা দাস, ১২/০৮/১৮ ________________________________ চল্লিশটি বসন্ত গেল কেটে একটিও বসন্ত সৌরভ জুটেনি মোটে খরা উত্তপ্ত জীবন মরুতে তবুও এত্তদিন একদিনও জেনো কাঁদিনি কস্মিন! শুভ্র দশটি  শৈশব ছিল জীর্ণ জন্মলগ্ন থেকে গতিপথ  ঠিকানাহীন নৈঃশব্দরা নিমগ্ন উচ্চারণের গলি পথে শুষ্কতায় তবুও একদিনও জেনো কাঁদিনি রুক্ষতায়। একদিন কেঁদেছিলাম, যেদিন স্কুলের প্রথম হয়েছিল বিশ্বাস, তারস্বরে ডেকেছিলাম সবাইকে বার্তা দিতে অসহায় ভাবে  মৃত্যু হয় আবেগের একরাতে। ক্ষয়ের তাড়সে মৃত্যু হয়েছিল দুঃস্থ পিতার মায়ের অপলক চোখে অশ্রু বহমান মুছড়ে পড়েছিল আমার আবেগ দাম শেষবারের মতো অসহায় হয়ে কাঁদছিলাম। সবপেয়ে হারিয়ে গেলেও আর কান্না আসেনা চোখে একবারও স্বপ্ন হারিয়ে গেল, আপনজন গেল চলে বিশ্বাস কর কাঁদিনি, কাঁদব কি ছলে? যেদিন সব হয়েছিল শূণ্যতায় পূর্ণ বসন্ত আর গ্রীষ্ম বুঝেনি প্রাণ, শীত কি হেমন্ত নজর পড়েনি কোনো এখন!   হারানো আর কাঁদাতে পারেনা যেন ! ___________________________________ রচনাকাল ১২/০৭/১৮

রবীন্দ্র কবিতা পাঠ

https://youtu.be/YsGVDkM792Y

গীত

গীত যুথিকা দাস। ___________________________________ আমার একতারাটা কাঁদে কেন সই! মনের খবর মন না জানলে কারে বল কই! বাউল আমার নাম, বাংলার পথে পথে গাই বাংলা সুরে গান, একতারাটায় তার বিহনে সুর লাগেনা সই।। নেইকো আমার গ্রাম, বনবাদাঁড়ে থাকি আমি ভিক্ষা করা নাম একতারাটা সঙ্গের সাথী তারে কোথায় থই।! আমার সুখের সীমানায়  , একতারাতে  সুর উঠে গো বাংলা ভাষা বন্দনায়, বাংলা মায়ের আঁচল হতে সুধা সিক্ত হই ।। আমি কোনো ধর্মের নই, বটতলার ঐ ঝাঁকড়া গাছে মা বলিয়ে কই, দুঃখ হল চির সঙ্গী, বাংলার  বাউল হলাম সই।। ________________________________________ রচনাকাল ০৪/০৭/২০১৮

আজ ১৯ শে মে, বরাকের মাতৃভাষা শহীদ দিবসে জানাই শ্রদ্ধাবনত শিরে তাঁদের জানাই অশ্রুসিক্ত প্রণাম।

আজ ১৯ শে মে, বরাকের মাতৃভাষা শহীদ দিবসে জানাই শ্রদ্ধাবনত শিরে তাঁদের জানাই অশ্রুসিক্ত প্রণাম।

এবং ঊনিশ

এবং ঊনিশ যুথিকা দাস, ১৯/০৫/১৮ ____________________________________ আমি নির্বাসিতা ঈশান বাংলার কোণে জন্মি, গর্বে ভাসে আমার স্বর্গের পূর্বপুরুষের ভূমি, আমরাও তার সঠিক উত্তরপদ খুঁজি, তামাম বাঙালির মতো আমিও বাঙালি। এপার ওপার বাংলার বাইরে নাম হল ঈশান বাংলা, আজও এ ঈশানের রক্তাক্ত ইতিহাস উপেক্ষিত, ইতিহাসের পাতায় আগুন লড়াই কী সত্য, জানতে পারেনি আজও বিশ্ব বুনিয়াদ ঈশান বাংলার এগারো জোড়া চোখের অবসাদ। কাকভোরে ভুখা পরিবারের আম লোক মিছিল হরতালে মিলিয়েছিল পা, নগ্ন পায়ে শহর থেকে শহরে পরিক্রমা, বিক্ষুভ, গড়েছিল পদব্রজে মিছিল, তরজা। সেই ষাটের ডিসেম্বর থেকে শুরু কার্যকালি, আগ্রাসীর বাংলা ভাষা হনন, অসমীয়াকরণ, মেনে নেয়নি বরাকের নির্বাসিতা ঈশান বাঙালি। চলে দলে দলে পথ সভা, বিক্ষোভ প্রতিবাদ আমরা" জান দেব তবু জবান দেবনা" স্লোগান গর্জে উঠে দিনমজুরী বন্দ করে চলে হরতাল, আন্দোলন গণবিক্ষোভ, সদর ঘেরাও, চরমে পৌঁছে মে মাসের ঊনিশের সকাল। ট্রেণ লাইল বাস লাইন করতে হবে বন্দ , ঝাঁপিয়ে পড়ে পুলিশও গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে, দশের গ্রেপ্তারে কুড়িতে ভরেছিল শূণ্য, অতীষ্ঠ সত্যাগ্রহী আগুন ধ...

মরণোত্তর জবানবন্দী

মরণোত্তর জবানবন্দি যুথিকা দাস ১৭/০৫/১৮ ___________________________________ এই তো সময় জেগে উঠো, ধর মন্ত্রণা শ্লোক, নাও মরণোত্তর জবানীতে দগ্ধ হোক তাপ প্রতিশ্রুতি আর শোষণের, লোভাতুরা চোখ। মরণের তীরে তীরে লিখা হোক প্রতিবাদ কলমের আঁচরে কবিতা হোক বৃষ্টির মতো, পথ ঘাট শশ্মাণ সমাধি হোক একাকার, কবিতা হোক তোমার আমার। কবিতাই হোক এক মাত্র হাতিয়ার মৃত্যু উপত্যকাতে আরেক সমাধি গড়তে, কবিতা চলুক,  হাটুক রাজপথ ধরে, আভিজাত্য শহুরে লেখকের গায়ে কালি ছুড়ুক, এই কবিতারা শোষকের মুখে, যারা চিরদিন শাসনের নামে করেছে শোষণ জোঁকের মতো রক্ত শোষে হাভাতে মানুষের, যাদের মেহনতির বিনিময় দিতে তার, তোলে অজুহাত এক নয় একাধিক বার। যারা চোখে কালো পট্টি বেঁধে শোষণ করছে মানুষের মগজের শুভ্রতার শ্লেষ, দিনের পর দিন বেকারত্ব ঘোচাতে মরছে পাথর কুটে কেটে ঘাম ঝরায় যারা যাদের মুখের শুভ্র হাসির অন্তরালে লুকিয়ে আছে তিক্ততার মতো ক্লেশ। রে শোষক দেবতা! তেমরাই সুশীল নামে কলঙ্ক, তোমরাই উপেনের মহাজন, সাম্যতার নামে ধ্বজা উড়াও, সভা সভ্যাতার বন্দর আর বিদেশী কাগজে। মাটির দেশে মাটির হাড়িতে, কত মাটির গন্ধ নিয়েছ শ...